দলটি

দলের সদস্যবৃন্দ

ব্ল্যাক হোল হান্টার্স প্রজেক্টটি অ্যাডাম ম্যাকমাস্টার (ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটন এবং দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি), হিউ ডিকিনসন (দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি), এবং ম্যাথিউ মিডলটন (ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটন)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের সাথে এই উদ্যোগে যুক্ত আছেন নোরা আইজনার (ফ্ল্যাটিরন ইনস্টিটিউট), অ্যান্ড্রু নর্টন (দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি) এবং স্টিফেন সার্জেন্ট (দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি)।

অ্যাডাম ম্যাকমাস্টার


আমি সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আমার আগ্রহের প্রধান বিষয় হলো টাইম-ডোমেইন অ্যাস্ট্রোনমি এবং অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট; সেইসাথে বড় বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডেটাসেট থেকে অস্বাভাবিক বা কৌতূহলোদ্দীপক কিছু খুঁজে বের করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা। আমি সম্প্রতি দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি শেষ করেছি, যেখানে আমি 'ব্ল্যাক হোল হান্টার্স' এবং 'সুপার-ওয়াস্প ভেরিয়েবল স্টারস' (SuperWASP Variable Stars) প্রজেক্ট দুটি পরিচালনা করেছি। পিএইচডি শুরুর আগে আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতাম; সবশেষ আমি জুনিভার্স-এর অক্সফোর্ড ডেভেলপমেন্ট টিমের সদস্য ছিলাম।

হিউ ডিকিনসন


আমি যুক্তরাজ্যের দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের একজন প্রভাষক। আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আমাদের প্রচুর তথ্য (data) সরবরাহ করে, যা একদিকে যেমন নিখুঁত ও সূক্ষ্ম, অন্যদিকে সেগুলোর বিশ্লেষণ করাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং। আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল এবং কৌতূহলোদ্দীপক সমস্যাগুলো সমাধানে মানুষ এবং কম্পিউটার কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারে—এই বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে।

ম্যাথিউ মিডলটন


আমি ম্যাট, সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের একজন সহযোগী অধ্যাপক (Associate Professor)। আমার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় আমি ব্ল্যাক হোল এবং মহাবিশ্বের সাথে এদের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় কাটিয়েছি। আমি যেমন দূরবর্তী গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা অতিভারী (supermassive) ব্ল্যাক হোল নিয়ে কাজ করেছি, তেমনি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে থাকা তুলনামূলক ছোট এবং নাক্ষত্রিক ভরের (stellar mass) ব্ল্যাক হোলগুলো নিয়েও পড়াশোনা করেছি। এই চমকপ্রদ বস্তুগুলো নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে আমি এটা জানার চেষ্টা করি যে, কীভাবে এরা এদের চারপাশের স্থান-কালকে (spacetime) বাঁকিয়ে বা মুচড়ে দিতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে মৌলিক সব সত্য উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে।

নোরা আইজনার


আমি নিউ ইয়র্ক সিটির ফ্ল্যাটিরন ইনস্টিটিউটের একজন রিসার্চ ফেলো। যদিও আমার গবেষণার মূল বিষয় হলো বহিঃগ্রহ (exoplanets) শনাক্ত করা, তবে টাইম-সিরিজ ডেটা বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের আর কী কী রোমাঞ্চকর বস্তু বা মহাজাগতিক ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করতে আমি ভীষণ ভালোবাসি! আমি বর্তমানে জুনিভার্স-এর 'প্ল্যানেট হান্টার্স টেস' (Planet Hunters TESS) প্রজেক্টের নেতৃত্বে আছি এবং 'টেস' মিশন থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে আমরা আরও কী কী নতুন আবিষ্কার করতে পারি, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।

অ্যান্ড্রু নর্টন


আমি ওপেন ইউনিভার্সিটির 'অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এডুকেশন'-এর একজন অধ্যাপক। আমার গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নাক্ষত্রিক ব্যবস্থার 'টাইম ডোমেইন অ্যাস্ট্রোফিজিক্স'। আমি জুনিভার্স-এর SuperWASP Variable Stars প্রজেক্টটিরও নেতৃত্বে আছি। সুপার-ওয়াস্প (SuperWASP)-এর মতো জরিপগুলো মহাবিশ্বের যে অদ্ভুত ও চমৎকার সব বস্তু উন্মোচন করতে পারে, তা আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে।

স্টিফেন সার্জেন্ট

আমি যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক এবং আমি নিজেকে একজন "রিকভারিং ব্লব কাউন্টার" (বিন্দু গণনাপ্রবণ ব্যক্তি) বলে মনে করি। পাঁচ বছর বয়স থেকেই আমি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রেমে পড়ি; এমনকি তখন আমি প্রতিটি বেকড বিন গুনে না নিয়ে খেতাম না। আমার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় আমি ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে কাজ করেছি, যেখানে সুদূর গ্যালাক্সিগুলোকে ইনফ্রারেড ছবিতে ছোট বিন্দুর বা 'ব্লব'-এর মতো দেখায়। এই বিন্দুর সংখ্যাই বলে দেয় মহাবিশ্বের শুরুর দিকে নক্ষত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া কেমন ছিল। মহাকর্ষীয় লেন্সিং বিষয়টি আমাকে ভীষণ টানে, যেখানে আইনস্টাইনের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী স্থান ও কালের বক্রতা দেখা যায়। ইনফ্রারেড ছবিতে দেখা অনেক উজ্জ্বল বিন্দুই আসলে লেন্সিংয়ের বিবর্ধন প্রভাবের কারণে অতটা উজ্জ্বল দেখায়। আমি সত্যিই আশাবাদী যে, এই জুনিভার্স প্রজেক্টটি ব্ল্যাক হোল দ্বারা সৃষ্ট লেন্সিংয়ের নতুন কোনো আবিষ্কারে সাহায্য করবে। আমি 'সোসাইটি ফর পপুলার অ্যাস্ট্রোনমি'-র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং আপনি চাইলে টুইটারে (https://twitter.com/StephenSerjeant) আমাকে অনুসরণ করতে পারেন।

আমাদের পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ


মূল SuperWASP: Black Hole Hunters প্রজেক্টটি ESCAPE প্রজেক্টের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। 'এসকেপ' (ESCAPE - The European Science Cluster of Astronomy & Particle Physics ESFRI Research Infrastructures) ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'হরাইজন ২০২০' গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মসূচির (গ্রান্ট এগ্রিমেন্ট নং ৮২৪০৬৪) অধীনে অর্থায়ন পেয়েছে।

সুপার-ওয়াস্প (SuperWASP) প্রজেক্টটি বর্তমানে ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটি এবং কিল ইউনিভার্সিটি দ্বারা অর্থায়িত ও পরিচালিত হচ্ছে। এটি মূলত কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট, কিল ইউনিভার্সিটি, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটি, লিসেস্টার ইউনিভার্সিটি, দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটি, দ্য আইজ্যাক নিউটন গ্রুপ, দ্য ইনস্টিটিউটো ডি অ্যাস্ট্রোফিজিকা ডি কানারিয়াস, দ্য সাউথ আফ্রিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি এবং এসটিএফসি (STFC)-এর সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।